টাইগারদের ঘুর্ণিপাকে সবকিছু হারাতে বসেছে অস্ট্রেলিয়া !

টাইগারদের ঘুর্ণিপাকে সবকিছু হারাতে বসেছে অস্ট্রেলিয়া !

প্রথম টি-২০ জয়ে পেয়ে অনেক টা মানসিক সাহস পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যার ফলশ্রুতিতে ২য় টি-২০ তে জয় তুলতে পিছপা হয়নি তারা। পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ ইতেমধ্যে জিতে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সামনের যে কোন একটি ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জিতে যাবে। তাই বলা যায় সিরিজ জয়ের সুবাস পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা।

নানা শর্ত দিয়ে আসা ট্রিম অস্ট্রেলিয়া মিরপুরের মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না । প্রথম দুই টি-২০ ম্যাচে তাদের স্কোর টি-২০ ম্যাচে ২০ ওভার ব্যাট করার পর তাদের সর্বনিম্ন তিন সংগ্রহের মধ্যে দুইটি। মিরপুরের উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনারদের সামাল দিতে গিয়ে বিপর্যস্ত তারা। সিরিজ জিততে হলে আগামী তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই জিততে হবে সফরকারীদের।

অজি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মিচেল মার্শ ছাড়া অন্যরা বাংলাদেশের বোলারদের ধাঁধার উত্তর দিতে পারছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজেও ছন্দে ছিলেন তিনি। প্রথম দুই টি-২০ ম্যাচের দুটিতেই মার্শ করেছেন ৪৫ করে রান। দুই ম্যাচেই তিনি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে বাকিরা পিচ থেকে সুবিধা আদায় করে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করা বাংলাদেশের সামনে একদম পরাস্ত। হোম অব ক্রিকেটে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলায় টাইগাররা খুব ভালো করেই জানেন এ পিচে ব্যাটসম্যানদের কীভাবে আটকে রাখতে হয়!

শুধু স্পিনাররা নয়, ধীর উইকেটকে কাজে লাগাচ্ছেন বাংলাদেশের পেসাররাও। মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত সব স্লোয়ার আর কাটারে নাকাল অজিরা। তৃতীয় ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কের কণ্ঠেও ছিল মুস্তাফিজের বন্দনা। লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে দারুণ সব স্লোয়ার দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য পথের কাঁটা হয়ে উঠেছেন মুস্তাফিজ।

সঙ্গে তিন স্পিনারের ঘূর্ণি তো আছেই। নতুন বলে বেশ ভালো লেন্থে বল করে দুই ম্যাচে দলকে শুরুতেই ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন মেহেদী হাসান। দুই ম্যাচেই সাকিব আল হাসান করেছেন আঁটসাঁট বোলিং। আরেক বামহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ প্রথম ম্যাচে বেশ টার্ন আদায় করেছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে খানিকটা খরুচে হলেও এ স্পিনত্রয়ী বাংলাদেশের বড় অস্ত্র।

তবে বাংলাদেশের দুর্ভাবনা টপ অর্ডারের পারফরম্যান্স। দুই ম্যাচেই ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছেন সৌম্য সরকার, হয়েছেন বোল্ড। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের খেলতে গিয়ে নাকাল তিনি। দুই ম্যাচে তার স্কোর যথাক্রমে ২, ০। মিরপুরের এ ধীর উইকেটে রান করার সবচেয়ে বড় সুযোগ পাওয়ারপ্লে। কিন্তু শুরুর দিকেই তিনি বিদায় নেওয়াতে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই খেলতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তাই আগামী ম্যাচেও আস্থা রাখা হবে সৌম্য সরকারের ওপর।

নজরকাড়া পারফর্ম করেছেন তরুণ ক্রিকেটার আফিফ হোসেন ধ্রুব। দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে নিজের টেম্পারমেন্ট এবং দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন তিনি। দুই ম্যাচেই আবির্ভূত হয়েছেন দলের ত্রাতা রূপে। তৃতীয় টি-২০ ম্যাচের আগে লাইমলাইট থাকবে তার ওপরেও। তাকে বেশি বল মোকাবেলা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যাটিং অর্ডারে এক বা দুই ধাপ ওপরে নিয়ে আসা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

অন্যদিকে পরিবর্তন আসতে পারে সফরকারীদের একাদশে। ব্যাট হাতে মোটেও ছন্দে নেই জশ ফিলিপ। ক্যারিয়ারে দশটি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৩.৮ গড়ে সংগ্রহ মাত্র ১৩৮ রান। সর্বশেষ পাঁচ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৩ রানের। তার পরিবর্তে একাদশে দেখা যেতে পারে বেন ম্যাকডরমটকে।

About sb

Check Also

10 Best Defi Wallets In 2022 Hot & Cold Wallet

These wallets are custodial, which means that your keys and coins are kept by the …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.