মেসির বিদায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছেন তার ভক্তরা!!

মেসির বিদায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছেন তার ভক্তরা!!

সেই ১৩ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডিজিজ নিয়ে আর্জেন্টিনার লা রোজা থেকে উড়ে এসে বার্সেলোনায় ঠাঁই হয়। মেসির বাবার সঙ্গে বার্সা স্কাউটের চুক্তি ছিল, মেসির গ্রোথ হরমোন ডিজিজের যে চিকিৎসা সেটা তো চলবেই, সঙ্গে তাকে বার্সার ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি করে দেয়া হবে। বার্সায় আসার পরই ছোট্ট লিওনেল মেসির ঠাঁই হলো লা মাসিয়ায়। জগদ্বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি।

২০০০ সালে বার্সায় আসার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকরকে। এরপর গত ২১টি বছর বার্সেলোনাকে এক মোহমায়ায় আবদ্ধ করে ফেলেছেন তিনি। বার্সার ফুটবলপ্রেমীদের আচ্ছন্ন করে নিয়েছেন পায়ের জাদুতে।

সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সে মেসি হোন, রোনালদো কিংবা নেইমার। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সবাইকেই চলতে হয়। সমর্থকরা তো দুরে থাক, খোদ মেসিও কী কখনো কল্পনা করতে পেরেছিলেন, তাকে ন্যু ক্যাম্প ছাড়তে হবে? কতবারই তো বলেছেন, বার্সেলোনাতেই জীবনের শেষ ফুটবল ম্যাচটি খেলবেন।

কিন্তু মানুষ যা ভাবে, যা পরিকল্পনা করে- তা কী সব সময় ঘটে? লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও ঘটলো না। গত এক বছরের টানাপোড়েনের পর বার্সা প্রেসিডেন্ট হিসেবে হুয়ান লাপোর্তা পূণরায় দায়িত্ব নেয়ার পর সবাই ধরে নিয়েছিল, তাহলে মেসির আর যাওয়া হচ্ছে না। এমনকি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোপা আমেরিকা চলাকালীন খবর বের হয়, অর্ধেক বেতনে হলেও বার্সায় থাকতে রাজি হয়েছেন মেসি। চুক্তি স্বাক্ষর হবে শিগগিরই।

কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেই বাজ পড়ার মত খবরটি প্রকাশ হলো। বার্সেলোনার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে মেসির সঙ্গে তাদের আর সম্পর্ক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। লা লিগার যে ফাইনান্সিয়াল নিয়ম-নীতি রয়েছে, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে মেসিকে রাখা যাচ্ছে না। সুতরাং, ২১ বছরের মায়ায় লালিত সম্পর্কটা নিমিষেই ভেঙে পড়ল।

আজ ন্যু ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসি বিদায় জানাতে আসলেন বার্সেলোনাকে। হুয়ান গাম্পার ট্রফির খেলা শুরু হবে আর কিছুক্ষণ পর। জুভেন্টাসের বিপক্ষ ম্যাচটিতে মাঠে নামার আগে মেসি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসলেন বিদায় বলতে। সেখানে এসেই অঝোর ধারায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন বার্সার সদ্য সাবেক সুপার স্টার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠেই মেসি বললেন, ‘আমার নতুন চুক্তির (বার্সার সঙ্গে) সব কিছুই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বার্সা এবং আমি সব কিছুতেই একমত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি মনেপ্রাণে চেয়েছি থাকতে। যখন আমি ছুটি কাটিয়ে বাড়িতে (বার্সায়) ফিরে আসলাম, তখনও সব কিছু ঠিক ছিল। বার্সায় আমি থাকছি এবং নতুন চুক্তিও সম্পন্ন। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে লা লিগার নিয়ম-নীতির কারণে কিছুই হলো না। সব কিছু ভেস্তে গেলো।’

ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির এই আবেগঘন কান্নার দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবার চোখেই যেন নেমে এসেছিল পানির ধারা। সবাই বাকরুদ্ধ। কেউ কথা বলতে পারছিল না। কেউ এই মুহূর্তটির জন্য প্রস্তুত ছিল না। সবার কাছেই মনে হচ্ছিল অবিশ্বাস্য একটি মুহূর্ত।

আইএইচএস/এমএস

About Sajal

Check Also

10 Best Defi Wallets In 2022 Hot & Cold Wallet

These wallets are custodial, which means that your keys and coins are kept by the …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.