স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের রেকর্ড গড়া ম্যাচে টাইগারদের লজ্জার হার
Breaking News

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের রেকর্ড গড়া ম্যাচে টাইগারদের লজ্জার হার

ম্যাচের আগে বাংলাদেশকে পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি) কিংবা ওমানের মতো বলে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন স্কটল্যান্ডের কোচ শেন বার্জার।

তার জবাবে টাইগার অধিনায়ক বলেছিলেন, আমরা আমাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। কিন্তু কথার লড়াইয়ের পর মাঠের লড়াইয়েও স্কটিশ কোচ তার কথার প্রমাণ রেখেছেন বেশ।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছে তার বোলাররা। দারুণ লড়াইয়ের পর দুর্দান্ত জয় পেয়েছে স্কটিশরা। হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো টাইগাররা।

আজ রোববার রাতে ওমানের আল-আমেরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তোলে স্কটল্যান্ড।

জবাবে নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৪ রান তোলে বাংলাদেশ। ৬ রানের জয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় স্কটিশদের।

স্কটিশদের দেওয়া মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে আসেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। কিন্তু শুরুটা আশা জাগানো হয়নি।

মাত্র ৮ রানের মাথায় ফেরেন সৌম্য (৫)। ব্যর্থতার পরিচয় দেন আরেক ওপেনার লিটন দাসও। মাত্র ৫ রান করে ফেরেন তিনি। দুই ওপেনারকে হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তিনে আসা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে চাপ নিয়ে ব্যাট করেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম আট ওভারে ৩৪ রান নেওয়ার পর নবম ওভারে মাইকেল লিস্ক থেকে ১৮ রান আদায় করে নেয় বাংলাদেশ।

এতে রানের চাপ কিছুটা সরে যায় টাইগারদের গাড় থেকে। ৬৫ রানের মাথায় সাকিবকে ফিরিয়ে আবারও বাংলাদেশকে চাপে ফেলে স্কটিশরা। ২৮ বলে মাত্র ২০ রান করে ক্রিস্টফার গ্রীভস বলে মিড-উইকেটে ক্যালাম ম্যাকলিওডের তালুবন্দি হন তিনি।

১৪তম ওভারের প্রথম বলে গ্রীভসকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মুশফিক। ৩৬ বলে ৩৮ রান করে দলের বিপদের সময় সাজঘরের পথ ধরেন এই ব্যাটসম্যান।

পঞ্চম উইকেটের জুটিতে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব তেমন কোনো ব্যবধান গড়ে দিতে পারেননি। দলের চাপের সময় ১১ বলে ১৭ করে জস ডেভির শিকার হন আফিফ।

খানিক পরে বাউন্ডারিতে তালুবন্দি হয়ে ফেরেন নুরুল হাসান সোহানও। তাতেই বাংলাদেশের হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে থামে টাইগাররা।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করতে আসেন দুই স্কটিশ ওপেনার কাইল কোয়াটেজার ও জর্জ মুন্সি। বোলিং আক্রমণে বাংলাদেশ শুরু করে তিন পেসার দিয়ে।

প্রথম ওভারে তাসকিনের চার রানের পর দ্বিতীয় ওভারে একটি লেগ বাইতে রান পায় স্কটল্যান্ড। পরের ওভারে এসে নিজের চতুর্থ বলে স্বাগতিক অধিনায়ক কোয়াটেজারকে সাজঘরে ফেরান সাইফউদ্দিন।

শুরুতে অধিনায়ককে হারানোর পর জর্জ মুন্সির সঙ্গে দলের হাল ধরেন ম্যাথিউ ক্রস। দুই জনের ব্যাটে ধাক্কা কাটিয়ে উঠে স্কটিশরা।

প্রথম পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান তোলে তারা। দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ম্যাথিউ ক্রসকে সাজঘরে ফেরান শেখ মেহেদী হাসান।

১৭ বলে মাত্র ১১ রান করে ফেরেন তিনি। একই ওভারের চতুর্থ বলে ওপেনার জর্জ মুন্সিকেও ফেরান এই স্পিনার। ২৩ বলে ২৯ রান করে ফেরেন তিনি।

নবম ওভারে উইকেট পেতে পারতেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু শট ফাইন লেগে ক্যালাম ম্যাকলিওড বল তুলে দিলেও ঠিক সময়ে ক্যাচ নিতে পারেননি তাসকিন। প্রথম দশ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তোলে স্কটিশরা।

১১তম ওভারে এসে জোড়া শিকার করেন সাকিব। দ্বিতীয় বলে রিচার্ড বেরিংটন ও চতুর্থ বলে মাইকেল লিস্ককে ফেরান তিনি। বাউন্ডারি থেকে দুর্দান্ত দুটি ক্যাচ তালুবন্দি করেন আফিফ হোসেন ও লিটন দাস।

এরই মধ্য দিয়ে মালিঙ্গার ১০৭ উইকেটের রেকর্ড ভাঙেন তিনি এবং একই সঙ্গে ১২ হাজার রানের পাশাপাশি ৬০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

পরের ওভারে এসে ক্যালাম ম্যাকলিওডকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মেহেদী। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন এই স্পিনার। অন্য দিকে সমান সংখ্যক ওভার করে মাত্র ১৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন সাকিব।

৫৩ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন ক্রিস্টফার গ্রীভস ও মার্ক ওয়াট। দুই ব্যাটারের ফিফটি রানের জুটিতে দলীয় শতকপূর্ণ করে স্কটিশরা।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে এসে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন। ১৭ বলে ২২ করে সৌম্য সরকারের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন মার্ক ওয়াট।

শেষের দিকে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী হয়ে উঠেন গ্রীভস। ২৮ বলে ৪৫ করে ইনিংসের শেষ ওভারে প্রথম মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন তিনি।

পরের বলে জস ডেভি বোল্ড করেন দ্বিতীয় শিকার বানান এই পেসার। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তোলে তারা।

About Shakil

Check Also

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরষ্কার পেলে মুস্তাফিজ

আইপিএলে ভালো খেলার পুরস্কার পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। এবারের আসরে মুস্তাফিজুর রহমান খেলছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.