৭ বছরেও রবিউলের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি কোন ফাস্ট বোলার

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ১০ বোলিং স্পেলের ৮টিই স্পিনারদের (তাইজুলের দুটি, সাকিবের তিনটি, মেহেদি হাসান মিরাজ ও এনামুল জুনিয়র একটি করে)। সেখানে জায়গা পেয়েছেন দু’জন মাত্র পেসার; শাহাদাত হোসেন রাজীব আর রবিউল ইসলাম শিবলু।

এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন রাজীব ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে পতন ঘটিয়েছেন ৬ উইকেটের (১৫.৩-৮-২৭-৬)।

আরেক পেসার রবিউল ইসলাম শিবলুও সমান ৬ উইকেট শিকারি। সেটা ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল হারারেতে; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭১ রানে ৬ উইকেট দখল করেছিলেন রবিউল ইসলাম শিবলু।

এই দুই স্পেলের মধ্যে রবিউল ইসলাব শিবলুর স্পেলটিকেই অনেকেই সেরা বলেছেন। আর দেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্পেল করা এই বোলারকেই হারিয়ে যেতে হয়েছে অবহেলায়।

অথচ ২০১০ সালে লর্ডসে স্বপ্নের টেস্ট অভিষেকে উইকেটশূন্য থাকা এই পেসার দ্রুতই বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিতে শিখে গিয়েছিলেন।

বিশেষ করে ২০১৩-র এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সফরের অবিশ্বাস্য বোলিং দিয়ে বিস্মৃতপ্রায় নাম হয়েও এখনো মাঝেমধ্যেই অক্ষত এক সাফল্য তাঁকে নিয়ে আসে আলোচনায়।

সেই সফরে হারারেতে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে ৩৩৫ রানের হারে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দলের হয়ে আশার একমাত্র সলতে হয়ে জ্বলেছিলেন শুধু রবিউলই।

তেমন গতিশীল বোলার নন, তবু সুইং দিয়ে ঠিকই প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে ছাড়া এই ডানহাতি পেসার ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ৮৪ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। পরের ইনিংসে আরো বিধ্বংসী, ৬ শিকার ৭১ রানে। কিন্তু দলীয় খেলায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা (দুই ইনিংসে ১৩৪ ও ১৪৭) বিসর্জনে পাঠায় হারারের পেস সহায়ক কন্ডিশনে রবিউলের ওরকম দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স।

একই ভেন্যুতে পরের টেস্টে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান ব্যাটসম্যানরা। যথারীতি উজ্জ্বল রবিউলের পারফরম্যান্সও তাই আরেকবার বিফলে যায় না।

১৪৩ রানের জয়ে সিরিজ বাঁচায় সফরকারীরা। ৮৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার পথে রবিউল নিজের অফুরান প্রাণশক্তিরও জানান দেন ৩৩ ওভার বোলিং করে।

ভুল পড়ছেন না। লম্বা স্পেলে বোলিং করতে অভ্যস্ত এই পেসারের পর প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ ওভার করে বোলিং করেছিলেন দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও সোহাগ গাজী।

দ্বিতীয় ইনিংসে আরেক পেসার জিয়াউর রহমানের সাফল্যে ঢাকা পড়া রবিউল ৫৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। দুই টেস্টে ১৫ উইকেট, ইনিংসে ৫ উইকেট দুইবার।

এর মধ্যে হারারেতে শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসের বোলিংই রবিউলকে বারবার স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনে। তিনি ফিরে আসতেই থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না বাংলাদেশের অন্য কোনো পেসার এক টেস্ট ইনিংসে ৫ উইকেট পাচ্ছেন। ৭ বছর পেরোলেও এখনো তার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি কোন পেসার।

উল্লেখ, দেশের হয়ে ৯ টেস্ট খেলে ২৫ উইকেট পাওয়া রবিউল বার বার পরিশ্রম করেও জাতীয় দল তো দুরে থাক ঘরোয়া লীগেও ডাক পাননি। যেকারণে পরিবারের কথা ভেবে গতবছর ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রবিউল।

About অজয়

Check Also

এই বিপদে সাকিবের পাশে দাড়ালেন ১ জন

র্ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পুরো মৌসুম খেলতে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছুটি নিয়েছেন সাকিব আল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *